গল্প ০১
মুন্নী
প্রথম সুযোগ, নিজের একটি ভবিষ্যৎ
বছরের পর বছর তীব্র মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা আর সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের প্রত্যাখ্যানের পর মনের কাজের মাধ্যমে মুন্নী পান তাঁর প্রথম কর্মসংস্থানের সুযোগ। আজ পারিশ্রমিকের কাজ তাঁকে পছন্দ, আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতা নতুন করে গড়ে তুলতে সাহায্য করছে।
বিশ বছর বয়সেই মুন্নীর সাত বছর কেটে গেছে এমন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে, যা তাঁর চারপাশের মানুষ বুঝে উঠতে পারত না। তিনি মানুষজনকে তীব্রভাবে সন্দেহ করতে শুরু করেন, এমন কণ্ঠস্বর শুনতেন যা অন্যরা শুনত না, একা একা কথা বলতেন ও হাসতেন, আর কখনো কখনো হঠাৎ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতেন বা আক্রমণাত্মক আচরণ করতেন।
তাঁর পরিবার ভয় পেয়েছিল এবং একটা ব্যাখ্যা খুঁজছিল। প্রথমে তারা তাঁর কষ্টকে আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে বুঝতে চেয়েছিল এবং ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। এসব চেষ্টায় অবস্থার উন্নতি না হলে মুন্নীকে প্রথমবারের মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে সহায়তা করা হয়। যথাযথ চিকিৎসায় তাঁর সুস্থতার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়।
কিন্তু একটি বাধা সরতে শুরু করতেই আরেকটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে — কলঙ্ক। সম্ভাব্য নিয়োগকর্তারা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ইতিহাস জানতে পেরে কাজ দিতে অনাগ্রহী হন। তিনি কী শিখতে বা কী দিতে পারেন, তার ন্যায্য মূল্যায়নের আগেই রায় দেওয়া হয়ে যেত।
মনের কাজ মুন্নীকে তাঁর প্রথম কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়। আয়টা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এর অর্থ টাকার চেয়েও বড়। এখন তিনি নিজের চিকিৎসার খরচে অবদান রাখতে পারেন এবং প্রসাধনীসহ পছন্দের ব্যক্তিগত জিনিস কিনতে পারেন। দেখতে এগুলো সাধারণ কেনাকাটা মনে হলেও এর ভেতরে আছে মৌলিক একটি বিষয় — পছন্দ। এর ফলে একজন তরুণী পুরোপুরি অন্যের ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজের জীবনের সিদ্ধান্তে অংশ নিতে পারেন।
মুন্নীর যাত্রা দেখায়, চিকিৎসা একটি দরজা খুলে দিতে পারে, কিন্তু সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সুযোগও দরকার। যখন একজন মানুষকে বিশ্বাস করা হয়, পাশে দাঁড়ানো হয় এবং মানসিক রোগের তকমা দিয়ে নয় বরং তাঁর অবদান দিয়ে বিচার করা হয়, তখন তিনি আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা আর নিজের পছন্দে গড়া একটি ভবিষ্যৎ ফিরে পেতে শুরু করেন।