যত্ন প্যাকেজ
প্রশান্তি প্যাক
ইয়োগা ম্যাটের মাপের একটি শীতল পাটি আর একটি নকশি কাঁথা, ইয়োগা বা মেডিটেশনের জন্য।
৳১,৮০০
মনের যত্ন, সাফল্য আর স্বাধীনতায়
মনের কাজে আমরা গুরুতর মানসিক অসুস্থতা থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষ এবং স্নায়ুবৈচিত্র্যসম্পন্ন ব্যক্তিরা হাতে-কলমে ও সৃজনশীল বিভিন্ন দক্ষতা শেখার সুযোগ করে দিই। তাঁরা নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে হস্তশিল্প ও অন্যান্য পণ্য তৈরি করেন এবং অনলাইন ও সরাসরি — দুইভাবেই নিজেদের পণ্য ও সেবা মানুষের কাছে তুলে ধরতে এবং বিক্রি করতেও পারেন।
আমরা সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে পুনর্বাসন, আয়-রোজগারের সুযোগ এবং গবেষণাকে একসঙ্গে যুক্ত করে চাই, তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হোক, আয়-রোজগার বাড়ুক এবং অন্যের ওপর নির্ভরতা কমুক। তাঁরা যেন সমাজে সমান সুযোগ ও সম্মান নিয়ে নিজের মতো করে আত্মসম্মানের সাথে জীবন কাটাতে পারেন। পাশাপাশি, তাঁদের হাতের কাজের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকুক আমাদের স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।
বিশ্বজুড়ে গুরুতর মানসিক অসুস্থতা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষ এবং স্নায়ুবৈচিত্র্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে লাখ লাখ মানুষের কাজের দক্ষতা আছে, কাজ করার ইচ্ছাও আছে। তবু তাঁদের বেশির ভাগই কাজের সুযোগ পান না।
মনের কাজ এই অবস্থাটা বদলাতে চায়, তাঁদের জীবনে নতুন আশা জাগাতে চায়। কাজ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো, নিজের মতো করে বাঁচা আর জীবনে সফল হওয়ার যে স্বপ্ন তাঁরা দেখেন, সেই স্বপ্ন পূরণে আমরা তাঁদের পাশে থাকতে চাই।
আমাদের মডেল
বিশ্বে প্রায় ৬ থেকে ৯ কোটি মানুষের গুরুতর মানসিক অসুস্থতার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁদের অনেকেই চিকিৎসায় ভালো আছেন, কাজ করার দক্ষতাও আছে। তবু কম ও মাঝারি আয়ের দেশগুলোতে তাঁদের প্রায় ৯০ শতাংশই বেকার। আবার বিশ্বে প্রায় ৫ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অটিজম, বুদ্ধিবিকাশজনিত প্রতিবন্ধিতা কিংবা দুটোই রয়েছে। তাঁদেরও কাজ করার ইচ্ছা আছে, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন আছে। কিন্তু অনেকেই সেই সুযোগ পান না। বাংলাদেশের মতো সীমিত সম্পদের দেশে এই মানুষদের কাজ পাওয়ার পথে একসঙ্গে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়।
আমি গত ১২ বছর ধরে বাংলাদেশে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে স্নায়ুবৈচিত্র্যসম্পন্ন মানুষ এবং গুরুতর মানসিক অসুস্থতার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছি। কাছ থেকে দেখেছি, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রের নানা বাধা এবং সমাজের প্রচলিত ভুল ধারণা কীভাবে তাঁদের পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ সীমিত করে দেয়। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় সবার শেখার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ খুব কম। এর সঙ্গে রয়েছে সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব। ফলে অনেকেই প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন না কিংবা নিজের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পান না।
এমন মানুষও আছেন, যাঁদের উচ্চশিক্ষা আছে, কাজের দক্ষতা আছে, কর্মজীবনে সফলতার অভিজ্ঞতাও আছে। কিন্তু গুরুতর মানসিক রোগ ধরা পড়ার পর তাঁরাও কাজ পেতে কঠিন বাধার মুখে পড়েন। এমনকি নিজের যোগ্যতার চেয়ে কম দক্ষতা প্রয়োজন — এমন কাজও অনেক সময় পান না। এর পেছনে বড় কারণ সমাজে গভীরভাবে গেঁড়ে বসা ভুল ধারণা এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ না থাকা। এভাবেই লাখ লাখ মানুষ নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বছরের পর বছর অন্যের ওপর নির্ভর করে থাকতে বাধ্য হন। এতে তাঁদের নিজেদের ও পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ এবং মানসিক কষ্ট বাড়ে।
মনের কাজ এই দীর্ঘদিনের সংকট বদলাতে চায়। সৃজনশীল কাজ শেখা, নিজ এলাকায় পণ্য তৈরি করা এবং সেই পণ্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগকে আমরা একসঙ্গে যুক্ত করছি। আমাদের লক্ষ্য, এই মানুষগুলো যেন নিজের সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন এবং সমাজে সম্মানের সঙ্গে অংশ নিতে পারেন। এই লক্ষ্য পূরণে আমরা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছয়টি বিষয় নিয়ে কাজ করছি।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে স্থানীয় কাজের কেন্দ্রের সংযোগ
আমরা আমাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় উৎপাদনকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করছি। এসব কেন্দ্রে অংশগ্রহণকারীরা একসঙ্গে হাতে-কলমে কাজ শিখতে, পণ্য তৈরি করতে এবং বিভিন্ন সেবা দিতে পারবেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আর স্থানীয় কেন্দ্রগুলো একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
কাজ শেখা থেকে আয় করার সুযোগ
আমাদের উদ্যোগ শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা চাই, অংশগ্রহণকারীরা যা শিখবেন, তা কাজে লাগিয়ে পণ্য তৈরি করতে, সেবা দিতে এবং আয় করতে পারেন। তাঁরা অনলাইনে ও সরাসরি ক্রেতাদের কাছে নিজেদের পণ্য বিক্রি করবেন এবং সেবা দেবেন। এভাবে কাজ শেখার সঙ্গে বাজারে পৌঁছানোর সুযোগও যুক্ত হবে।
নিজের সংস্কৃতি ও জীবনের অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে শেখা
অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা দক্ষতা বাড়ানোর কোর্স তৈরি করছি। এসব কোর্সে স্থানীয় শিল্প-সংস্কৃতির চর্চাকে পণ্য তৈরি এবং অনলাইনে ও সরাসরি বিক্রির সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, সৃজনশীল শিল্পচর্চাকে কাজে লাগিয়ে আমরা সুপরিকল্পিত চিকিৎসা ও সহায়তামূলক কার্যক্রম গড়ে তুলতে চাই। এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য হবে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করা, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে ভূমিকা রাখা এবং জীবনের মান বাড়ানো।
স্বাস্থ্য, সামাজিক জীবন ও আয়-রোজগার নিয়ে গবেষণা
সৃজনশীল কাজে যুক্ত হওয়ার সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণ এবং আর্থিক অবস্থার কী সম্পর্ক রয়েছে, তা আমরা গবেষণার মাধ্যমে বুঝতে চাই। শুধু একজন মানুষের জীবনে নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সমাজেও এই উদ্যোগ কী প্রভাব ফেলে, তা আমরা দেখব।
কাজের যোগ্যতা নিয়ে সমাজের ধারণা বোঝা
গুরুতর মানসিক অসুস্থতার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন মানুষ এবং অটিজমসহ স্নায়ুবিকাশজনিত ভিন্নতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের দক্ষতা ও কাজ করার সামর্থ্য সম্পর্কে সমাজের মানুষ কী ভাবেন, তা আমরা জানতে চাই। তাঁদের কর্মসংস্থান নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা, নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈষম্যও আমাদের গবেষণার বিষয়।
শিল্প ও কারুশিল্পের মাধ্যমে স্থানীয় ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখা
স্থানীয় শিল্প, নকশা ও কারুশিল্পের ধারা যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য আমরা এসব বিষয়কে কাজ শেখা ও পণ্য তৈরির অংশ করছি। আমরা চাই, মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি তাঁদের এলাকার শিল্পচর্চা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও টিকে থাকুক।
আমাদের স্থানীয় কাজের কেন্দ্রগুলোর নাম ‘মনের ঘর’ — মনের কাজ হাব। এলাকার সংস্কৃতি, স্থানীয় সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন মাথায় রেখে আমরা এই কেন্দ্রগুলো গড়ে তুলছি।
আমরা কাউকে এমন বাঁধাধরা কর্মপরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য করতে চাই না, যেখানে সবার শেখা, বোঝা ও কাজ করার ধরন একই ধরে নেওয়া হয়। বরং প্রত্যেকের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে এমন পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যে শিখতে ও কাজ করতে পারবেন।
আমাদের পদ্ধতি হলো আগে উপযুক্ত কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া, তারপর সেই কাজের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া। এর সঙ্গে থাকবে সৃজনশীল শিল্পচর্চাভিত্তিক থেরাপি এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা ও সামাজিক জীবনে অংশ নেওয়ার সুযোগ।
মনের কাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডা. তানজির রশিদ সরণ। তিনি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, গবেষক, সামাজিক উদ্যোক্তা ও ডিজাইনার। গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে মানুষের জীবনে কাজে লাগানো তাঁর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। চিকিৎসার জ্ঞান, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং মানুষের প্রয়োজন বুঝে সেবা ও কাজের ব্যবস্থা গড়ে তোলার দক্ষতাকে তিনি একসঙ্গে যুক্ত করছেন। তাঁর এই কাজের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং প্রত্যেকের প্রয়োজন অনুযায়ী ন্যায্য সুযোগ তৈরি করা।
পণ্য
যত্ন প্যাকেজ
ইয়োগা ম্যাটের মাপের একটি শীতল পাটি আর একটি নকশি কাঁথা, ইয়োগা বা মেডিটেশনের জন্য।
৳১,৮০০
যত্ন প্যাকেজ
হাতে আঁকা মগ, হাতে বানানো বাক্সে প্রিমিয়াম চা, আর হাতে আঁকা ডায়েরি।
৳১,১০০
যত্ন প্যাকেজ
আমাদের কারিগরদের গহনা, পোশাক বা অন্য উপহার, রিকশাচিত্রে আঁকা হাতে বানানো বাক্সে, সঙ্গে হাতে সেলাই করা চিঠি।
৳১,৪৫০
যত্ন প্যাকেজ
নিজের জন্য, নাকি কাছের মানুষকে উপহার দিতে? নিজের মতো করে বানিয়ে নিতে চাইলে কী কী বদলাতে চান লিখে আমাদের পাঠিয়ে দিন। আমরা যোগাযোগ করে আপনার সঙ্গে মিলে ঠিক করে নেব।
আগে লিখুন কী চান।
এতে আপনার মেসেজ লেখা অবস্থায় হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমেইল খুলবে। সেখানে সেন্ড না চাপা পর্যন্ত কিছুই পাঠানো হবে না।
সেবা
ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি পিঠা, মিষ্টি ও রান্না — অনুষ্ঠান ও পারিবারিক আয়োজনের জন্য।
কাপড়, পোশাক, বালিশের কভার ও হোম ডেকোরে হাতে করা নকশিকাঁথা ও সূচিকর্ম।
আপনার পছন্দ ও নকশা অনুযায়ী হাতে তৈরি গয়না — হার, চুড়ি ও কানের দুল।
দক্ষ দর্জিদের মাধ্যমে আপনার মাপ ও পছন্দ অনুযায়ী পোশাক তৈরি এবং নিখুঁতভাবে পোশাকের মাপ ও নকশা পরিবর্তনের সেবা।
শেখার হাব
বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সংক্ষিপ্ত ভিডিও, অডিও এবং চিত্রভিত্তিক শিক্ষামূলক মডিউল। কোর্স সম্পন্ন করার পর সনদ প্রদান করা হবে।
আপনার সময় ও উপকরণের প্রকৃত মূল্য বের করুন।
শুধু একটি ফোন আর একটি জানালা দিয়ে ভালো ছবি।
যে কথা আস্থা গড়ে তা লিখুন, তারপর প্রথম বিক্রিকে দ্বিতীয় বিক্রিতে রূপ দিন।
নিরাপদে পৌঁছে দিন, আর পৌঁছানোর পরও গ্রাহককে ধরে রাখুন।
পরিবর্তনের পথিকৃৎ
প্রতিটি মানুষের জীবন যেমন একেকটি গল্প, তেমনি প্রতিটি পণ্যের পেছনেও আছে একটি গল্প। আমরা সেই গল্পগুলো সবার কাছে পৌঁছে দিতে চাই। জানাতে চাই, এই জায়গায় পৌঁছাতে তাঁদের কত লড়াই করতে হয়েছে, কত বাধা পেরোতে হয়েছে। তুলে ধরতে চাই তাঁদের হাল না ছাড়ার অসাধারণ মনের জোর আর বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস।
জীবনে প্রথম আয়ের সুযোগ: নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পথে মুন্নি
গল্প ০১
প্রথম সুযোগ, নিজের একটি ভবিষ্যৎ
মুন্নি গুরুতর মানসিক অসুস্থতার কারণে খুব কঠিন সময় পার করছিলেন। তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে বস্তির অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতেন। রাস্তায় যা খাবার পেতেন, তা-ই খেতেন। কখনো ছাগলের জন্য রাখা খাবারও খেতেন। অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর সময় তিনি গালাগাল করতেন। তাঁকে বাইরে যাওয়া থেকে আটকাতে তাঁর মা-বাবা ঘরে লোহার লম্বা শিকলে বেঁধে তালা দিয়ে রাখতেন।
এই অবস্থায় তাঁকে খুঁজে পাওয়ার পর আমাদের দল চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। তাঁর অবস্থার উন্নতি হলে আমরা তাঁকে মনের কাজের সঙ্গে যুক্ত করি।
মুন্নি এখন নিয়মিত মনের কাজের ঢাকা কেন্দ্রে কাজ করেন। জীবনে প্রথমবার কাজ করে আয় করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। নিজের আয় দিয়ে ওষুধ কেনেন, দৈনন্দিন প্রয়োজনের অন্যান্য জিনিসও কিনতে পারেন। এখন তাঁর মুখে হাসি, জীবনে ফিরেছে আনন্দ।
আগুন যখন সব কেড়ে নিল: শাহীনুর আবার বসলেন নিজের মেশিনে
গল্প ০২
এক একটি সেলাইয়ে জীবন নতুন করে গড়া
শাহিনুর দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। তাঁর মানসিক অসুস্থতার এক পর্যায়ে স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর তাঁর জীবনে আসে আরও গভীর শোক—তাঁর ১১ বছরের মেয়েকে আত্মহত্যার কারণে হারাতে হয়।
জীবনের কঠিন সময় সেখানেই শেষ হয়নি। বস্তিতে তাঁর ছোট একটি সেলাইয়ের দোকান ছিল, যেটি ছিল তাঁর আয়ের প্রধান অবলম্বন। ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে দোকানটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। চিকিৎসার জন্য তাঁকে যথাযথ মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে তাঁর অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। কিন্তু সামনে তখনও বড় প্রশ্ন—তিনি কীভাবে নিজের জীবিকা চালাবেন?
মনের কাজ তাঁকে কাজের সুযোগ দেয়। এখন শাহিনুর নিয়মিত কাজ করছেন, আয় করছেন এবং ধীরে ধীরে নিজের জীবন আবার গড়ে তুলছেন।
প্রতিকূলতার পরও তাঁর কাজ, আয় এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা আমাদের কাছে ঘুরে দাঁড়ানোর এক বাস্তব গল্প।
নির্ঘুম রাত পেরিয়ে: চিকিৎসা ফিরিয়ে দিল তাঁর দিনগুলো
গল্প ০৩
অসুস্থতা নয়, মাপকাঠি হোক তাঁর দক্ষতা
তীব্র মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের পর চিকিৎসার মাধ্যমে ইউনুস ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পরও কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার অতীতের কারণে অনেকেই বিশ্বাস করতেন না যে তিনি নিখুঁতভাবে সেলাইয়ের কাজ করতে পারবেন। মনের কাজ তাকে কোনো নেতিবাচক ধারণার ভিত্তিতে নয়, বরং তার দক্ষতা ও কাজের সক্ষমতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছে। আজ ইউনুস আবার কাজে ফিরেছেন, নিয়মিত আয় করছেন এবং নিজের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারছেন।
মনের কাজ হাব
এলাকার মানুষের প্রয়োজন এবং স্থানীয় সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখে আমরা বিভিন্ন এলাকায় ‘মনের ঘর’ নামে মনের কাজের স্থানীয় কেন্দ্র গড়ে তুলছি। এখানে সবাই একসঙ্গে কাজ শিখতে ও কাজ করতে পারবেন।
গুরুতর মানসিক অসুস্থতার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন মানুষ এবং স্নায়ুবৈচিত্র্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রয়োজনকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। তাঁরা যেন এখানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সহজে অংশ নিতে পারেন এবং নিজের মতো করে শিখতে ও কাজ করতে পারেন—সেভাবেই প্রতিটি মনের ঘর গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।
কড়াইল বস্তি
কড়াইলের প্রাণকেন্দ্রে মনের কাজ দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষের সংস্কৃতি, জলবায়ু অভিবাসনের অভিজ্ঞতা ও শহুরে জীবনের গল্পকে একত্র করে। রিকশা পেইন্টিং, গয়না তৈরি, হাতে সেলাই ও ক্যাটারিংয়ের মাধ্যমে তৈরি হয় দক্ষতা, আয় ও নতুন সম্ভাবনা।
প্রস্তাবিত হাব
যশোর নকশিকাঁথা ও ঐতিহ্যবাহী সূচিশিল্পের এক ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, কৃষিকাজে বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার মতো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এ অঞ্চলে ধীরে ধীরে প্রকট হচ্ছে। যশোরের বিশেষ সেলাইশিল্প (যশোর স্টিচ), খেজুরের পাটালি গুড়, গাছিদের (খেজুরের রস সংগ্রহকারী) জীবনগাথা এবং বাংলাদেশের ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গদখালী অঞ্চল এ জেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অনন্য পরিচয় বহন করে।
হাব দেখুন
জলবায়ু সংকটের সম্মুখসারির মানুষ
সাতক্ষীরা তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীনির্ভর জীবনযাত্রা, শতাব্দীপ্রাচীন স্থাপত্য, সুন্দরবনকে ঘিরে লোককথা এবং স্থানীয় হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতি এ অঞ্চলের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছে। সাতক্ষীরা ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির শিল্প ও মৃৎশিল্প, মেলে ঘাসের মাদুর, খেজুরপাতার ঝুড়ি এবং খড়ের তৈরি হস্তশিল্পের অন্যতম প্রাচীন কেন্দ্র।
হাব দেখুন
যমুনার চর
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় যমুনার বুকে জেগে ওঠা প্রত্যন্ত বালুচর পাথরাইল। নদী ভাঙন আর মৌসুমী বন্যায় চরের সীমানা বারবার বদলায়, আর বেঁচে থাকার জন্য এখানকার মানুষ ভরসা করেন চাষবাস, মাছ ধরা ও গরু-ছাগল পালনের ওপর।
হাব দেখুনযেখানে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প হয়ে ওঠে মানসিক সুস্থতার সহায়ক।
আমরা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে সৃজনশীল শিল্পচর্চা ও কারুশিল্পভিত্তিক এমন হস্তক্ষেপ তৈরি করতে চাই, যা তাঁদের মানসিক সুস্থতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়তা করবে।
এর পাশাপাশি, গুরুতর মানসিক অসুস্থতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও স্নায়ুবৈচিত্র্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আমরা পারস্পরিক সহায়তা বা পিয়ার সাপোর্ট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলব, যাতে তাঁরা একে অন্যের অভিজ্ঞতা, শক্তি ও শেখার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন।
আমরা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতির মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও চিকিৎসাভিত্তিক কার্যক্রমকে একসঙ্গে যুক্ত করি। প্রথমে অর্থবহ কাজগুলো চিহ্নিত করি, তারপর প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতিতে সেগুলো সাজাই, থেরাপির কাজে ব্যবহার করি এবং এর ফলাফল পরিমাপ করি।
পুনরাবৃত্তি, ছন্দ ও স্পর্শের অনুভূতিসমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের কাজ বেছে নেওয়া।
মানসিক শান্তি ও স্থিরতা বজায় রাখতে কাজের ধাপ, গতি ও ইন্দ্রিয়ের অভিজ্ঞতাগুলোকে একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসাভিত্তিক পদ্ধতিতে সাজানো।
পরিকল্পিত কাজগুলোকে থেরাপির অংশ হিসেবে ব্যবহার করা — যার মাধ্যমে সেশনে মানসিক স্থিরতা, পারস্পরিক সহায়তা এবং নতুন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা হয়।
ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা — মানসিক উপসর্গের উন্নতি, নতুন দক্ষতা অর্জন এবং নিয়মিত অংশগ্রহণের অগ্রগতি দেখা।
মনের কাজে আমরা ওপেন ইনোভেশন, ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক সহমর্মিতাপূর্ণ নকশা এবং মানুষ–সমাজ–পরিবেশকে একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া সমন্বিত কাঠামো অনুসরণ করি। এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে চাই, গুরুতর মানসিক অসুস্থতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও স্নায়ুবৈচিত্র্যসম্পন্ন ব্যক্তিরা কাজ খুঁজতে এবং কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে কী ধরনের বাধার মুখোমুখি হন। একই সঙ্গে আমরা অনুসন্ধান করি, সৃজনশীল কাজ কীভাবে তাঁদের মানসিক সুস্থতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে।
আমাদের গবেষণায় গুণগত ও পরিমাণগত—দুই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মাধ্যমে আমরা বাস্তব জীবনের তথ্য সংগ্রহ করে জানতে চাই, জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের জীবন ও মানসিক সুস্থতায় কী প্রভাব ফেলে এবং সৃজনশীল শিল্পচর্চা, জলবায়ু সহনশীলতা ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ কীভাবে একসঙ্গে মানুষের ভালো থাকা ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি বাড়াতে পারে।
আমাদের অন্বেষণ
উদ্ভাবনী কাজ ও সৃজনশীল পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বুঝতে ও মোকাবিলা করতে চাই। স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যনির্ভর হস্তশিল্প এবং মানুষের নিজের জীবনের গল্পকে একত্র করে আমরা সুস্থতা, সহনশীলতা ও সামাজিক সংযোগের নতুন পথ তৈরি করি।
জলবায়ু ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন
শিল্প ও সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে আমরা জলবায়ু সচেতনতাকে স্থানীয় সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করি। পরিবেশগত সংকটের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে একসঙ্গে তুলে ধরে আমরা মানুষের মধ্যে গভীর আবেগগত সংযোগ, সচেতনতা এবং ঐতিহ্য রক্ষার দায়বদ্ধতা তৈরি করতে চাই।
শিল্প · আখ্যান · আরোগ্য
ঐতিহ্যবাহী কাঁথা সেলাইকে নতুনভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে তুলে ধরি — একই সঙ্গে কারুশিল্পের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তিকে সংরক্ষণ করি।
কারুকাজ · স্থিতিস্থাপকতা · চর্চা
লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের গল্প মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করি, যাতে পরিবেশের বার্তাগুলো কমিউনিটির পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।
লোকজ · সচেতনতা · কমিউনিটি
বিপন্ন ঐতিহ্যের সুরক্ষা
বাড়তে থাকা তাপমাত্রা ও বন্যা ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে আমরা টেকসই পোশাক তৈরির মাধ্যমে এসব কারুশিল্পের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করি।
টেকসই · সুস্থতা · পরিধেয়
জলবায়ু দুর্যোগ, দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের চাপে আমাদের অনেক সমৃদ্ধ স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। মনের কাজ এসব হারিয়ে যেতে থাকা ঐতিহ্যকে খুঁজে বের করা, পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে
পরিচয় · ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি · স্মৃতি
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক উপকরণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। কারুশিল্পের ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা টেকসই বিকল্প উপকরণ খুঁজে বের করি।
পরিবেশবান্ধব · প্রশান্ত · আরোগ্যদায়ী
যাঁরা এখানে তৈরি করেন, কেনেন ও একসাথে হন — তাঁদের নিজের ভাষায় লেখা কথা।